ওপেন নিউজ
  • | |
  • cnbangladesh.com
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
opennews.com.bd

মতামত

শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফর নিয়ে বিড়াল এত বেজার কেন?


Date : 03-28-17
Time : 1490729447

opennews.com.bd

ওপেননিউজ #লেখক- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী লন্ডন, সোমবার, ২৭ মার্চ ২০১৭, আজ পাকিস্তান আমলের এক বিস্মৃতপ্রায় কাহিনি দিয়ে লেখাটা শুরু করতে চাই। ১৯৫৬ সাল। তখন আওয়ামী লীগ ও

রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন সরকার ক্ষমতায়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সোহরাওয়ার্দী সম্পর্কে ভারতে অনেক বিরূপতা আছে। বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলায় তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব থাকাকালে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টের গ্রেট কিলিং নিয়ে। শহীদ সোহরাওয়ার্দীরও তেমন ভারতপ্রীতি ছিল না। নেহরু সরকারের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির তিনি ছিলেন সমালোচক। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষপাতী ছিলেন।
শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কোনো কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। কিন্তু পাকিস্তানের মার্কিনঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতি তিনি জোরালোভাবে অনুসরণ করতে চাইলেও যুগপৎ ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষপাতী ছিলেন। সেই ‘চীনা-হিন্দি ভাই ভাই’ স্লোগানের যুগেও তিনি সব সমালোচনা অগ্রাহ্য করে চীন সফর করেন এবং চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পাকিস্তানে নিয়ে আসেন।
পাকিস্তান সফরের সময় চৌ এন লাই ঢাকা সফরেও এসেছিলেন। ঢাকায় তাঁকে যে ঐতিহাসিক নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল, আমার বয়সী অনেকেই সম্ভবত সেই ঘটনা এখনো ভোলেননি। সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে একটা বিরাট মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। আজকের চীন-পাকিস্তান মৈত্রী সম্পর্কের তিনিই প্রথম রূপকার। একই সঙ্গে তিনি ভারতের সঙ্গে চিরবৈরিতার সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন। সোহরাওয়ার্দী দিল্লিতে যাবেন এবং জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনায় বসবেন—এমন এক উদ্যোগ শুরু হয়েছিল।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী আকস্মিক বিদেশ সফরের ফলে আর দিল্লি যেতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে ক্যাবিনেটের সিনিয়র সদস্য আবুল মনসুর আহমদ তখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ভারতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লি যাত্রা করেন। অমনি শুরু হয় মুসলিম লীগ ও তার মুখপত্রগুলোর তীব্র সমালোচনা। দিল্লি যাওয়ার সময় আবুল মনসুর আহমদ ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের জন্য সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে এক ভাণ্ড সুন্দরবনের মধু নিয়ে গিয়েছিলেন। রাজেন্দ্র প্রসাদ তখন অসুস্থ ছিলেন। এই মধুর কথা উল্লেখ করে মুসলিম লীগপন্থী কাগজগুলোতে বলা হয়, ‘শত্রুর মুখে মধু তুলে দিয়ে পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষা করা যাবে না, বরং ভারতের কাছে পাকিস্তানের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার জন্য মধুসহ অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর এই ভারত সফর। ’
এই তুমুল নিন্দা-সমালোচনার মুখেও আবুল মনসুর আহমদ দিল্লি সফর করেছিলেন। এ সফর শেষে তিনি যখন করাচিতে ফিরে আসেন তখন বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতিকে মধু উপহার দিতে পেরেছেন কি না? আবুল মনসুর জানিয়েছেন, পেরেছেন। এরপর দুঃখের সঙ্গে বলেছেন, But in the mean time honey lost it’s all sweetness. (দিতে পেরেছি, তবে ইত্যবসরে মধু তার সব মিষ্টতা হারিয়ে ফেলেছে)। সাংবাদিকদের বুঝতে কষ্ট হয়নি তিনি কী বলতে চাইছেন।
সুদীর্ঘকাল পর আমার আজকের লেখায় একটি বহু পুরনো ঘটনার অবতারণা এ জন্যই করলাম যে সময় বদলেছে, দেশ-কাল-পাত্র বদলে গেছে। আগের সেই মিলিত পাকিস্তানও নেই। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশেও বর্তমানের পাকিস্তানপন্থী (আগের মুসলিম লীগপন্থী) রাজনীতিক ও তাঁদের এক শ্রেণির সমর্থক মিডিয়ার ভারতবিদ্বেষ ও আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি বিরূপতা কিছুমাত্র পাল্টায়নি।
তাদের নাম পাল্টেছে, পরিচয় পাল্টেছে; কিন্তু চরিত্র পাল্টায়নি। মুসলিম লীগের তবু একটি প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক পরিচয় ছিল। বর্তমানের মুসলিম লীগপন্থীরা একটি অসাম্প্রদায়িক নাম দ্বারা তাদের দলকে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের সমর্থক এক শ্রেণির মিডিয়াও তাদের আওয়ামী লীগবিরোধিতা ঢাকা দেওয়ার জন্য নিরপেক্ষতার নামাবলি গায়ে চাপিয়েছে। কিন্তু তাদের চরিত্র যে বদলায়নি, তা আবার প্রকট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশলী প্রচার-প্রচারণায়।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে বৈরিতার সম্পর্ক, বাংলাদেশের সঙ্গে সে সম্পর্ক নয়; বরং সে সম্পর্ক মৈত্রী ও সহযোগিতার। তার শুরু বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ভারতের বিশাল সাহায্য-সহযোগিতা দানের মাধ্যমে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তথাপি সম্পূর্ণ ভারতঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেননি। তিনি ভারত ও চীনের মধ্যে সেই ‘ঠাণ্ডা ও গরম’ যুদ্ধের সময়ও দুই বিরাট প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক রক্ষার নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং চীন তখন স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়া সত্ত্বেও চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের কাছে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সূত্র ধরে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী সাম্প্রদায়িক চক্রগুলোর এ সময়েরও প্রপাগান্ডা ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের তাঁবেদার সরকার। ভারতের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকার বিকিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাস্তবতা ছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধু সরকারের চাপে ভারত তার সৈন্যবাহিনী বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করে। যে ফারাক্কা বাঁধ সমস্যা পাকিস্তান সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে অমীমাংসিত রেখে গিয়েছিল, মুজিব সরকার তার শান্তিপূর্ণ সমাধান করে এবং ৪৪ হাজার কিউসেক গঙ্গার পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করে। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি তখনই সম্পাদিত হয়, যা এতকাল পর হাসিনা সরকারের আমলে বাস্তবায়িত হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যাও পারস্পরিক আলোচনাক্রমেই সমাধান হতো, যদি বঙ্গবন্ধু সরকার আরো কিছুকাল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকত। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় এ সরকারকে উচ্ছেদ করে যাঁরা ক্ষমতায় আসেন তাঁরা তাঁদের পাকিস্তানি প্রভুদের ইঙ্গিতে ভারতবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতও গঙ্গায় পানির হিস্যা দেওয়া বন্ধ করা থেকে শুরু করে অন্যান্য সমস্যার সমাধানও ঝুলিয়ে রাখে। সীমান্ত বিরোধ বাড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দীর্ঘকাল পর ক্ষমতায় আসে। এ সরকারের বড় কৃতিত্ব এই যে বড় ও শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে আবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দ্বারা দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোর জট খোলা সম্ভব হয়েছে। গঙ্গার পানি সমস্যার সুরাহা হয়েছে। ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। স্থলসীমান্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সমুদ্র সীমানা নিয়ে বাংলাদেশ মামলা করলেও ভারত বিরোধে যায়নি। মামলার রায় মেনে নিয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের বর্তমান মোদি সরকার পর্যন্ত বিপুল সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে, এমনকি সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ে হাসিনা সরকারের পদক্ষেপে ভারত মনে মনে অখুশি কি না তা জানা না গেলেও প্রকাশ্যে কোনো আপত্তি জানায়নি।
তিন দফা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক রক্ষা করে একে একে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করেছে। তিস্তা ও অন্যান্য নদ-নদীর পানিবণ্টনের সমস্যা সম্পর্কেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীই বড় বাধা নন, পশ্চিমবঙ্গ-সংলগ্ন রাজ্যগুলোর পানি সমস্যাও তার সঙ্গে জড়িত। এ জন্যই মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ভারতের তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ ঢাকায় তিস্তাসংক্রান্ত আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে বৈঠকে আসেননি।
মমতা তাঁর রাজ্য-রাজনীতির স্বার্থে এই কাজটা করেছেন। কিন্তু তাঁর আপত্তিও এখন অনেকটা শিথিল হয়ে আসছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। দিল্লির কংগ্রেস সরকার ক্ষমতা হারানোর পর মোদি সরকারও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। বরং বিএনপি নেতারাই নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে পারবেন ভেবে প্রচুর মোদি-বন্দনা শুরু করেছিলেন। এই মোদি-বন্দনা সফল হলে বাংলাদেশের যথেষ্ট ক্ষতি হতো। বাংলাদেশে তখন ভারতের হস্তক্ষেপ ডেকে আনতে চেয়েছিল বিএনপি ও তার জোটভুক্ত দলগুলোই।
ভারতের স্বার্থেই মোদি তাদের এই পাতা ফাঁদে পা দেননি, বরং হাসিনা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেছেন এবং দ্বিপক্ষীয় বহু সমস্যার সমাধান করেছেন। চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তিস্তা চুক্তিও বহু যুগের বাধা অপসারণ করে শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ সম্পর্কে হাসিনা-মোদি আসন্ন বৈঠকটি শুরু হওয়ার আগেই বিএনপি ও এক শ্রেণির মিডিয়ার প্রচারণা আসলে পানি ঘোলা করার চেষ্টা।
এ যুগ সামরিক চুক্তির যুগ নয়। সুতরাং শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি ছাড়া সামরিক চুক্তিতে জড়াবেন, তা আমি মনে করি না। তবে অন্য যেসব অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে তা নিয়ে দিল্লি বৈঠকে আলোচনা হবে। এ সম্পর্কে একটু বিশদ আলোচনা দরকার। সময় ও সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে তা করার ইচ্ছা রইল।
 




মতামত



























সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান