ওপেন নিউজ
  • | |
  • cnbangladesh.com
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
    opennews.com.bd
opennews.com.bd

পরিবেশ

ঢাকায় তিন ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন


Date : 09-11-17
Time : 1505178125

opennews.com.bd

ওপেননিউজ # রাজধানীতে তিন ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে গতকাল সোমবার নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন কাজের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ। বৃষ্টিতে কাকভেজা হওয়ার পাশাপাশি রাস্তায় জমে থাকা পানির কারণে দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছায়। কোনো কোনো এলাকায় যানজটের কারণে রাস্তার উভয় পাশে অসংখ্য সিএনজি অটোরিক্সা, প্রাইভেট কার ও যাত্রীবাহী বাস ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে। ইঞ্জিনে পানি ঢুকে অকেজো হয়ে পড়ে অনেক গাড়ি। এতে যানজট রূপ নেয় জলজটে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সকাল ছয়টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি আরো তিন দিন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
গতকাল সকাল ছয়টার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর কখনো মুষলধারে আবার কখনো গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। গড়ে তিন ঘণ্টার মতো টানা বৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে নগরীর অলিগলি ও অনেক সড়কে কাদাপানি জমে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষকে। বৃষ্টির কারণে রাজধানীর মতিঝিল, পুরানা পল্টন, নয়াপল্টন, গুলিস্তান, নিউমার্কেট এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। এ কারণে গাড়িগুলো চলতে পারছিল না স্বাভাবিক গতিতে। আর রাস্তার বাম পাশের কোথাও ভাঙা বা গর্তের ভয়ে গাড়িগুলো শুধু ডানপাশ দিয়ে চলতে বাধ্য হয়। একারণে যানজট আরো তীব্র হয়। সকাল থেকে গুলিস্তান, মতিঝিলের দিকে যাওয়া গাড়িগুলো স্বাভাবিক গতি হারালে যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর রোড ও ভিআইপি সড়কের কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে। ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মানিক মিয়া এভিনিউ, ফার্মগেট, কাওরান বাজারসহ ঢাকার উত্তর অংশে বিমানবন্দর সড়ক, বনানী, গুলশান, মহাখালী এলাকাতেও তীব্র জলাবদ্ধতায় দুঃসহ যানজট তৈরি হয়।
এদিকে টেকনিক্যাল মোড় থেকে মিরপুর পর্যন্ত সব রাস্তা-ঘাট সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। ফলে পুরো বৃষ্টির সময় ধরেই রাস্তায় গাড়ি আটকে থাকতে দেখা গেছে। মিরপুর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা শাহ সিকান্দার রুবেল বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পরই তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। সাথে ছাতা থাকলেও লাভ হয়নি। বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে গেছি। এছাড়া সকাল থেকেই রাস্তায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম থাকায় গাড়িতে ওঠা দুষ্কর হয়ে পড়ে।
এদিকে মিরপুর-১ নম্বর থেকে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সিএনজি অটোরিক্সা, প্রাইভেট কার ও যাত্রীবাহী বেশ কয়েকটি বাস রাস্তায় জমে থাকা পানির মধ্যে বিকল হয়ে যায়। ফলে টেকনিক্যাল মোড় থেকে মিরপুর-১ নম্বর হয়ে চিড়িয়াখানা রোড এবং মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা পর্যন্ত গাড়ি আটকে থাকে পুরো বৃষ্টির সময়। আবার মিরপুর-১ নম্বর এবং চিড়িয়াখানা রোড এলাকায় রাস্তায় পানি জমে যাওয়ার কারণে গুলিস্তানগামী বা অন্য রুটে কোনো গাড়ি বন্ধ রাখার খবর পাওয়া যায়। বাস সার্ভিস চলাচল অনেকটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপদে পড়ে যায় হাজারো যাত্রী। মিরপুর-১০ নম্বর থেকে কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া সড়কে পানি জমার কারণে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর হয়ে ১১, ১২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতে সড়ক ও নিম্ন এলাকা তলিয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, টেকনিক্যাল মোড়, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট পর্যন্ত হাজার হাজার যাত্রী গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেও যাত্রীবাহী কোনো গাড়িতে উঠতে পারেননি।
অপরদিকে কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, সংসদ ভবন, কাঠাল বাগান, ধানমন্ডি-২৭ নম্বর, নিউমার্কেট এলাকা বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সিএনজি চালিত পরিবহনগুলো পানিতে বিকল হয়ে যাওয়ায় মানিকমিয়া এভিনিউ এলাকায় যানজট লেগেই ছিল। সংসদ ভবনের পশ্চিম মাথা থেকে শুরু করে ধানমন্ডি-২৭ নম্বর পর্যন্ত পানি জমে যায়।
এদিকে সংসদ ভবনের পূর্ব মাথা থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত সড়ক পানিতে ডুবে ছিল। এই  পানি জমে যাওয়ায় গাড়িগুলো আটকে পড়ে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। খামারবাড়ি রোডে পানি না জমলেও রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় হাঁটু পানি জমে যায়। এই এলাকার অলি-গলি পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ে। এদিকে বাংলামোটর থেকে মগবাজার পর্যন্ত রাস্তায় খুব বেশি পানি না জমলেও বাংলামোটরের এসি মার্কেটের সামনের রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। ফলে যানবাহনগুলোকে ধীরে ধীরে চলতে দেখা গেছে। জাতীয় প্রেসক্লাব, মত্স্য ভবন এলাকায়ও বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বৃষ্টিতে সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কগুলোতে পানি জমে যায়। বৃষ্টির কারণে ফার্মগেট থেকে শাহবাগ পর্যন্ত দেখা দেয় তীব্র যানজট।
এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, আজিমপুর, চানখাঁরপুলের চারপাশের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাজধানীর বাড্ডা, মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা লিংক রোডসহ আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
অনেককে পায়ের স্যান্ডেল-জুতো খুলে, প্যান্ট ভাঁজ করে কোনো রকমভাবে হাঁটতে দেখা যায়। আবার পরিবহনগুলো যখন পানিতে ঢেউ তুলে চলাচল করছিল তখন পায়ে হাঁটা যাত্রীরা ভিজে একাকার হয়ে যায়। এদিকে বৃষ্টিতে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশের বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। কিছু দোকান খোলা থাকলেও দোকানগুলোর ভেতরে পানি উঠে যায়।
প্রখ্যাত নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ওপেননিউজকে বলেন, মূলত ময়লা আবর্জনায় ড্রেন ভর্তি হয়ে যাওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। তাছাড়া রাজধানীর মধ্যদিয়ে থাকা খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। আগে ঢাকায় ৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত না হলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। এখন ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য তিনি ময়লা আবর্জনার ড্রেনগুলো পরিষ্কার এবং খাল উদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরেক নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, জলাধার রক্ষা, ডিসিসি ও ওয়াসার ড্রেন লাইনগুলো পরিষ্কারসহ বৃষ্টির পানি ধরে রেখে ব্যবহার করা গেলে ঢাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষ করে প্রত্যেক বাসা-বাড়িতে যদি বৃষ্টির পানি ধরে রাখার আধার নির্মাণ করা যায় তাহলে রাস্তায় পানি কম জমবে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি পাতালে চলে যাওয়ার সুযোগ দিলেও কম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। কংক্রিটের শহরের বৃষ্টির পানি পাতালে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছে না। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন স্থানে পাইপ গেড়ে পানি পাতালে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।




পরিবেশ



























সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এনামুল হক শাহিন
প্রধান সম্পাদকঃ সিমা ঘোষ
সম্পাদকঃ নরেশ চন্দ্র ঘোষ

ঠিকানাঃ
২৩/৩ (৪ তালা), তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
ফোনঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৯৭৭৭৬৮৮১১
বার্তা কক্ষঃ ফাক্সঃ ০২৯৫৬৭২৪৫, ০১৬৭৬২০১০৩০
অফিসঃ ০১৭৯৮৭৫৩৭৪৪,
Email: editoropennews@gmail.com



ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ নুরে খোদা মঞ্জু
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ গাউসুল আজম বিপু
বার্তা সম্পাদকঃ জসীম মেহেদী
আইটি সম্পাদকঃ সাইয়িদুজ্জামান